,



সংবাদ শিরোনাম:
«» “জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহযোগীতায় দেশে শ্যামল খান” «» ইসলামপুর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে ১৪জন কর্মী যোগদান «» কুমিল্লাসহ যে ২০ জেলায় প্রচারণায় যাবেন শেখ হাসিনা «» নেতাকর্মীরা মা-বাবার জানাজায় পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারেনি: কাদের «» সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত – ৭১নিউজ। «» সাতক্ষীরা সদর আসনে নৌকা প্রতিক বরাদ্দ পেয়ে হাজার মানুষের স্লোগানে মুখরিত শহর – ৭১নিউজ। «» সাতক্ষীরা ০২, মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতিক পেলেন এম.পি রবি। «» তরুন সাংবাদিক রবিউল করিম রবির শুভ জন্মদিন «» কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ «» নওগাঁয় তৃতীয় শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টায় আটক-১

আজ হোক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দিন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। – ৭১নিউজ।

৭১নিউজ ডেস্কঃ আকাশ ইসলাম 



আজ থেকে ১৪ বছর ৪৮ দিন আগে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ঘটানো ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী। আজ ঘটতে যাচ্ছে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত ২১ আগস্ট ঘটনার রায়। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো এক ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল।

তাদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্পিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন। নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় করা দুটি মামলার বিচারকাজ বিচারিক আদালতে শেষ হয়েছে। আজ সেই আহত ব্যক্তিরাসহ নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের বিচারের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে আজ।

এই সেই মামলা, যেটিকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নিজেদের অপকর্ম গায়েব করে দিতে এক অদ্ভুত ‘জজ মিয়া’ কাণ্ড সাজিয়েছিল। এছাড়া শৈবাল সাহা পার্থ নামের এক তরুণকে আটক করে তাকে ফাঁসানোর কাহিনি সাজানো হয়। শুধু তাই নয়, ওই চারদলীয় জোট সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও নেতা তাদের বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রচার প্রপাগান্ডা চালাতে থাকে। এমনকি হামলার সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত বলেও প্রচারণা চালানো হয়। অর্থাৎ, তদন্তের নামে গোটা ঘটনাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলে সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে। ১ মাস ১০ দিনের মাথায় কমিশন সরকারের কাছে ১৬২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দিয়ে বলে, কমিশনের সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে ইঙ্গিত করে, এই হামলার পেছনে একটি শক্তিশালী বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত। আশা করছি, যথারীতি রায় ঘোষণা করা হলেই তাদের সেই সাজানো গল্প তছনছ হয়ে যাওয়ার দিন হবে আজ। 

অতএব, কোনোই সংশয় নেই যে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটনার পর থেকেই নৃশংস ওই হত্যাযজ্ঞের তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আর তারই প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এর তদন্ত শুরু করে। আর তখন থেকেই বেরিয়ে আসে ঘটনাটিকে নিয়ে গল্প বানানোর নেপথ্য তথ্য। ২০০৮ সালের জুনে বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই হামলা ঘটানো হয়েছিল। যে হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল চির বৈরী দেশ পাকিস্তান থেকে। অর্থাৎ এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএস এর জড়িত থাকার প্রমাণও প্রাথমিকভাবে এতে পরিষ্কার হয়।  

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ-সংক্রান্ত মামলা দুটির বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এসে এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যারা জোট সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই) ও র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ ঘটনার ‘নাটের গুরু’ আবিষ্কারের জন্য বর্তমান মহাজোট সরকার কোনোই আইনি ‘ফাঁক’ রাখেনি। যাতে করে সেই ‘ফাঁক’ গলিয়ে তারা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। যে ‘নাটের গুরু’ হিসেবে তারেক রহমানকেই ‘মাস্টার মাইন্ড’ বলেছেন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ। 

ইতিহাসের জঘন্যতম, বর্বরোচিত ও নৃশংস ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হামলায় ১৩ আসামি ১৪টি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন  জেএমবি নেতা হাফেজ মাওলানা মুফতি হান্নান দুটি জবানবন্দি দেয়। ঘটনার অন্যতম আসামি ওই মুফতি হান্নানও যে ‘জবানবন্দি’ দিয়েছিলেন, তাতেও তিনি বলেছিলেন যে, ‘তারেকের পূর্ণ সহযোগিতা নিয়েই হামলাকারীরা কাজ করে’। শুধু তাই নয়, তিনি আরো জানিয়েছিলেন, ‘তারেক জিয়া আমাদের সব ধরনের সহযোগিতারও নিশ্চয়তা দেয়’। আশা করা যাচ্ছে সেই ‘নাটের গুরু’ তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজা ‘মৃত্যুদণ্ড’ই হয়তো হতে যাচ্ছে আজ। যাতে ভেঙে পড়বে তার স্বপ্নের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের সকল ইতিবৃত্ত। 

রায়ে যা-ই আসুক, আমরা প্রত্যাশা করবো কোনো নিরাপত্তাজনিত হুমকিতে যেন পড়তে না হয় দেশবাসীকে সেজন্য আজকের রায়কে ঘিরে যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পূর্ণ সজাগ থাকে। রায়কে ঘিরে কোনো দল বা মহল যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য পূর্ণ প্রস্তুতিতে থাকতে হবে।



 

76,067 total views, 1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রকাশিত সংবাদ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি,পাঠকের মতামত বিভাগে প্রচারিত মতামত একান্তই পাঠকের,তার জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়।
Developed By H.m Farhad H.m Farhad
Skip to toolbar